Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player


NEWS
মহান স্বাধীনতা দিবসে দেশবাসীকে ইলিয়াস কাঞ্চনের শুভেচ্ছা
২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, নিরাপদনিউজ : আজ ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালির দীর্ঘ স্বাধিকার আন্দোলনের চূড়ান্ত লড়াইয়ের সূচনার কাল। প্রতিবছর মহান স্বাধীনতা দিবস জাতির জীবনে প্রেরণায় উজ্জীবিত হওয়ার নতুন বার্তা নিয়ে আসে। স্বাধীনতা দিবস তাই বাংলাদেশের মানুষের কাছে মুক্তির প্রতিজ্ঞায় উদ্দীপ্ত হওয়ার ইতিহাস। ১৯৭১ সালের এই দিনে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদ্যাপন করবে জাতি। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতি দিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও শক্তিমান চলচ্চিত্র অভিনেতা চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে তিনি দেশবাসী এবং প্রবাসী সকল বাঙালিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।তিনি আরো বলেন, ছাব্বিশে মার্চ আমাদের জাতির আত্মপরিচয় অর্জনের দিন। পরাধীনতার শিকল ভাঙার দিন।মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে এক গৌরবময় দিন। বহু ত্যাগ-তিতিক্ষা এবং দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত হয় আমাদের মহান স্বাধীনতা। এ দিনে আমি সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করি স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি। আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে সন্ত্রাস ও হানাহানির পথ পরিহার করে দেশ ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে এবং সকলের চলার পথ নিরাপদ করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার শপথ নিই। সেই সাথে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর দেশ বিদেশের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যসহ নিরাপদ নিউজের সকল পাঠক, সংবাদকর্মী, লেখক, প্রতিনিধিবৃন্দ, বিজ্ঞাপনদাতা এবং শুভান্যুধায়ীদের নিসচা চেয়ারম্যান ও নিরাপদ নিউজের প্রধান সম্পাদক চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা জানান।
উম্মে আরা মিতা স্মরণে ইলিয়াস কাঞ্চন: নিরাপদ সড়ক চাই একজন দক্ষ ও সফল যোদ্ধাকে হারিয়েছে
২২ মার্চ ২০১৭, নিরাপদনিউজ: নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে এই আন্দোলনের একজন সহযোদ্ধা উম্মে আরা মিতা স্মরণে দোয়া মাহফিল ও স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয় গতকাল ২১ মার্চ মঙ্গলবার। এই আয়োজনে মূল বক্তা ছিলেন নিসচা প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।নিসচা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে একপর্যায়ে শোকাবহ পরিবেশের আবহ তৈরি হয়। আয়োজনে উপস্থিত থেকে মরহুমার কর্মময় জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক আলোচনায় অংশ নেন তাঁর দুই সন্তান রাজীব আল আজাদ, সজিব আল আজাদ, ভাগ্নে জাহিদ চৌধুরী, নিসচা’র ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল, মহাসচিব শামীম আলম দীপেন, যুগ্ম মহাসচিব সাদেক হোসেন বাবুল, বেলায়েত হোসেন খান নান্টু, লায়ন গনি মিয়া বাবুল, অর্থ সম্পাদক নাসিম রুমি, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুর রহমান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়, দুর্ঘটনা অনুসন্ধান ও গবেষণা বিষয়ক সহ সম্পাদক মোঃ আলাল উদ্দিন (সাধারণ সম্পাদক নিসচা ভৈরব শাখা) প্রমুখ। আরও উপস্থিত ছিলেন নিসচার প্রশিক্ষণ সম্পাদক ফারিহা ফাতেহ, কার্যনির্বাহী সদস্য কামাল হোসেন খান, কার্যনির্বাহী সদস্য সুরাইয়া রহমান মনি, কার্যনির্বাহী সদস্য আবু বকর সিদ্দিক রাব্বী, কার্যনির্বাহী সদস্য আনারুল হক, আজীবন সদস্য হুমায়ূন কবির, সাধারণ সদস্য বেবী ইসলাম, শেখ কবিরুল ইসলাম, রাজা মান্নান, নিসচা কদমতলী থানা শাখার সদস্য সচিব মোঃ সোলায়মানসহ মরহুমার সুহৃদজনেরা। স্মরণসভা পরিচালনা করেন নিসচা’র যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদ। স্মরণসভায় উম্মে আরা মিতার কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনায় বক্তারা মরহুমাকে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের অকুতোভয় সৈনিক হিসেবে আখ্যা দিয়ে পারিবারিক বন্ধু ও সৃহৃদজন হিসেবে তুলে ধরেন। বক্তারা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মীকে হারিয়েছে। যে শূণ্যতা কোনদিনই পূরণ হবার মত নয়। বক্তারা মরহুমার কর্মময় জীবনের অসমাপ্ত কাজ বিশেষ করে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে আরও গতিশীল করে নেয়ার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। বক্তাদের বক্তব্যে উম্মে আরা মিতার কষ্ট প্রকাশে ছিলেন কৃপণ, গভীর মমত্ববোধ প্রকাশ, আন্তরিকতা, স্বামী অন্তঃপ্রাণ, রাজনৈতিক সচেতন, পারিবারিক দায়িত্ববোধের পরিচয়, সদালাপী, বন্ধুবৎসল, সফল মা, কঠোর পরিশ্রমী, লোভ বিবর্জিত, প্রতিদান চাইতেন না, স্বীকৃতির জন্য কাজ নয়, হৃদয় মাখানো ভালবাসায় সকলকে আপন করে নেয়াসহ বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনের সাফল্যের বিভিন্ন দিক উঠে আসে। বক্তারা মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। রিশেষে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের প্রাণপুরুষ চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন উম্মে আরা মিতার কর্মময় জীবন নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, তাঁর মৃত্যুতে নিরাপদ সড়ক চাই একজন দক্ষ ও সফল যোদ্ধাকে হারিয়েছে। ক্রমবর্ধমান সড়ক দুর্ঘটনারোধে তিনি নিজেকে আত্মনিবেদিত রেখেছেন। এই সংগঠনের সকল কর্মকান্ডে সর্বাঘ্রে অবস্থান ছিল তাঁর। মৃত্যু তাঁকে সামাজিক এই আন্দোলন থেকে দূরে সরিয়ে দিলেও সহযোদ্ধারা তাঁর কর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে এই আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তিনি মরহুমার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আরও বলেন, নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন উম্মে আরা মিতা। মরহুমাকে নিজের বোন হিসেবে তুলে ধরে বলেন, যখনই কোন ভালমন্দ কিছু হতো ভাইয়ের জন্য সেখানকার একটি অংশ নির্ধারিত থাকতো। এখন আমার বোনও নেই আর ভালবাসার কোন অংশ বা আহবানও আর থাকবে না। তিনি বলেন, উম্মে আরা মিতা চলে গেছেন কিন্তু তাঁর কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে। সেই কাজ আমাদেরই এগিয়ে নিতে হবে।তাঁর জন্য সবাই দোয়া করবেন। স্মরণসভায় মরহুমার দুই সন্তান রাজীব ও সজিব কর্মময় জীবনে চলার পথে তাদের মায়ের কোন ব্যবহার বা আচার আচরণে কোন দুঃখবোধ থেকে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আকুতিও জানায়। স্মরণসভা শেষে মরহুমার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য তিনি গত ১২ মার্চ দুপুরে রাজধানীর মিরপুরে একটি হাসপাতালে জটিল রোগ ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।২০১০ সাল থেকেই তিনি নানা রোগে ভুগছিলেন।২০১৫ সালে বড় ধরণের একটি অপরেশনও করা হয় তাঁর শরীরে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮। তিনি দুই ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জননী। মরহুমার স্বামী আবুল কালাম আজাদ নিরাপদ সড়ক চাই’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং প্রতিষ্ঠাতাকালীন সময় থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল কর্পোরেশনে কর্মরত আছেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত উম্মে আরা মিতা ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক ছিলেন। মরহুমার দুই ছেলে রাজীব ও সজিব নিরাপদ সড়ক চাই’র সাথে যুক্ত আছেন। বলা চলে পুরো পরিবার এই সংগঠনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছেন। নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের এই সহযোদ্ধার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে নিরাপদ সড়ক চাই- এর প্রস্তাবনা
২১ মার্চ ২০১৭, নিরাপদনিউজ : নিরাপদ সড়ক চাই মনে করে নিসচা প্রণীত সুপারিশমালার আলোকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার সঠিক বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা জিরো টলারেন্সে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং জাতিসংঘ কর্তৃক নির্ধারিত ২০২০ সালের মধ্যে ৫০% সড়ক দুর্ঘটনা কমানোও সম্ভব হবে। ভূমিকা বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। আর এর তুলনায় সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা যথেষ্ট যথোপযুক্ত নয়। যার জন্য প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা অনাকাংখিত সড়ক দুর্ঘটনা, আর এর শিকার হচ্ছে সর্বস্তরের জনগণ। পাবলিক থেকে প্রাইভেট সব পরিবহনেই ঘটছে এরকম অহরহ দুুর্ঘটনা। ঘর থেকে বের হলেই বা খবরের পাতা উল্টালেই চমকে উঠতে হয় সড়ক দুর্ঘটনার খবর পড়ে। অশিক্ষিত চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দূর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জনগণের অসচেতনতা, অনিয়ন্ত্রিত গতি, রাস্তার অপর্যাপ্ততা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, আইন ও তার যথারীতি প্রয়োগ ইত্যাদিই মূল কারণ বলে চিহ্নিত করা যায়। এসব মূল কারণকে চিহ্নিত করে ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চনের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর শোককে শক্তিতে পরিণত করে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আমার নেতৃত্বে গড়ে উঠে একটি সামাজিক আন্দোলন- যার নাম নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। এই সংগঠনের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে জনগণ সচেতন হয়ে উঠেছে। এই সংগঠনের সামাজিক আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এর অঙ্গ সংগঠন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে জনসচেতনতাসহ সড়ক দুর্ঘটনারোধে বিভিন্ন কার্যক্রমে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ২২ অক্টোবর প্রতিপাদ্য বিষয় নির্ধারণ করে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালন, দেশব্যাপী বিদ্যমান চালকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ কর্মশালা, ভবিষ্যত প্রজন্মকে সড়ক নিরাপত্তা সর্ম্পকে উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি, বিনামূলে এসএসসি পাশ বেকার শ্রেণীকে গাড়ি চালনা প্রশিক্ষণ প্রদানপূর্বক কর্মক্ষম হিসেবে গড়ে তোলা, সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন কার্যক্রমসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করার পাশাপাশি সামাজিক কার্যক্রমে বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে। দেশ ও বিদেশের ১১০ টি শাখা সংগঠন সক্রিয়ভাবে জনসচেতনতাসহ সড়ক দুর্ঘটনারোধে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশের জনগণকে এর ভয়াবহতা সম্পর্কে অবহিত করছে এবং যা বিভিন্নমহল বিশেষ করে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গুরুত্ব বহন করে থাকে ও করণীয় সম্পর্কে নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক নজরে মূলচিত্র ক) গত তিন বছরের সড়ক দুর্ঘটনার গড় সংখ্যা ২৫৫২, দুর্ঘটনায় গড় মৃত্যুর সংখ্যা ৫২৪৩। গড় আহতের সংখ্যা ৭৪০২। খ) বার্ষিক জিডিপি ক্ষতিগ্রস্ত ১.৬%। গ) ক্ষতিগ্রস্তের মধ্যে পথচারীর সংখ্যা প্রায় ৫০%। ঘ) দুর্ঘটনার জন্য দায়ী দুই চাকা, তিন চাকার যানবাহন প্রায় এক তৃতীয়াংশ। ঙ) বিআরটিএ’র তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে রেজিস্ট্রেশনকৃত গাড়ির সংখ্যা ২৯,২১,৪৬২। চ) গাড়ি চালকের সংখ্যা (বিআরটিএ’র তথ্য অনুযায়ী) ১৯,৫১,২৮০। যার মধ্যে পেশাদার চালকের সংখ্যা ১০,০০,৩৩৪ এবং অপেশাদার চালকের সংখ্য ৯,৫০,৯৪৬। সরকারি হিসেবেই এখনো ৯,৭০,১৮২ জন চালকের সংকট রয়েছে। ছ) এছাড়াও অনেক অবৈধ যানবাহন রয়েছে যার চালকদের কোন বৈধ লাইসেন্স নেই। সুপারিশমালা ১. সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা # মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণাধীন রোড সেফটি সেল তৈরি করতে হবে যাতে করে সড়ক দুর্ঘটনা সর্ম্পকিত সকল মন্ত্রণালয়কে তথা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আইন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রে শ্রম মন্ত্রণালয়, চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনার জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ যোগানোর ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়, গাড়ি আমদানীর ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রণয়নে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, সিটি কর্পোরেশন, এলজিডি- একত্রে মনিটরিং করে সড়ক দুর্ঘটনা রোধকল্পে যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করা যায়। # ইতিমধ্যে সরকার সড়ক নিরাপত্তা আইন এর খসড়া প্রণয়ন করেছেন। সে খসড়া পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বাস্তবসম্মত আইন প্রণয়নের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। সাথে সাথে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী পক্ষকে ( যাত্রী, পথচারী, মালিক, রাস্তারত্রুটি, লাইসেন্স প্রদানকারী সংস্থা, প্রশাসন ইত্যাদি) কঠোর শাস্তির আওতায় আনারও সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়াও ৩০৪ ধারার আইনে জামিন অযোগ্য ও সর্বোচ্চ ১০ বছরের শাস্তির যে ব্যবস্থা ছিল নতুন আইনে তা পুনঃবহাল করার সুপারিশ করা হয়েছে। আমাদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী আইন প্রনীত ও তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। আগামী ৫ শালা পরিকল্পনায় বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য এসডিজি’স (SDGs)- এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এসডিজি’স (SDGs) মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণ করলে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে আমরা সড়ক দুর্ঘটানর ক্ষেত্রে কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছাতে পারবো বলে আশা রাখি। # ‘সড়ক পরিবহন আইন’ নামে যে আইন প্রণীত হতে যাচ্ছে তা ‘সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন’ নামে অভিহিত করা হোক। আমরা মনে করি ‘সড়ক পরিবহন আইন’ নামে যদি আইন প্রণয়ন করা হয় তাহলে সড়কের নিরাপত্তা বিধানে ফাঁক থেকে যায়। সড়কের নিরাপত্তা সুসংহত করতে এই আইনের নাম হোক ‘সড়ক পরিবহন ও সড়ক নিরাপত্তা আইন’। যাতে সড়কের নিরাপত্তার ব্যাপারে করণীয় বিষয়টি বাধ্যতামূলক হবে বলে মনে করি। # আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনার তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহের জন্য কোন সংস্থা না থাকায় সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক তথ্য জানা সম্ভব হয় না। যার ফলে কোন গবেষণা অথবা সঠিক কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয় না। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সেল তৈরি করে অথবা পিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশীপ) এর মাধ্যমে এ তথ্য ও উপাত্ত সংগ্রহ করে গবেষণামূলক কাজ করা যেতে পারে। # পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য ফুটপাথগুলো দখলমুক্ত করে যেখানে ফুটপাত নেই সেখানে ফুটপাত তৈরীর ব্যবস্থা করতে হবে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় যেনো ফুটপাত দখল না হয় এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এ ব্যাপারে সকল সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা মেয়র মহোদয়দের বিশেষ ভুমিকা রাখতে হবে। # বিভিন্ন সিটি কর্রোপোরেশনের আওতাভূক্ত রাস্তা পারাপারের জন্য বেশী বেশী আন্ডারপাস তৈরী করতে হবে। বিশেষ করে ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, ফার্মগেইট, নিউমার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আন্ডারপাস তৈরী করে নির্বিঘ্নে জনগণের রাস্তা পারাপার নিশ্চিত করতে হবে। যে সমস্ত রাস্তায় ফ্লাইওভার ও উড়ন্ত ব্রিজ রয়েছে অথচ রাস্তা পারাপারে কোন ব্যবস্থা নাই সেখানে অবশ্যই আন্ডারপাস এর ব্যবস্থা করতে হবে। ফুটওভার ব্রিজ অধিক উচ্চতা সম্পন্ন হওয়ায় পথচারীর উঠতে কষ্ট হয় বিধায় সেখানে আমরা আন্ডারপাস করার পক্ষপাতি। # দেশে হাজার হাজার গাড়ীর মালিক রয়েছে যারা নিজেদের খেয়াল খুশীমত গাড়ী পরিচালনা করে থাকে যার ফলে অসম প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হয়। সরকারি উদ্যেগে কয়েকটি কোম্পানীর মাধ্যমে দেশের সব গাড়ী পরিচালনা করলে একদিকে যেমন সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাবে অন্যদিকে সরকারের মনিটরিং করাও সহজ হবে। # মহাসড়কের পাশ থেকে হাটবাজার অপসারণ করার যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল তা বাস্তবায়ন করলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটা কমে যেতে পারে। তাছাড়াও মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের উপর যে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তারও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। # পরিবহন ব্যবসাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। যেন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে যান ব্যবস্থাপনা ব্যবহার হতে না পারে। # গাড়ি চালকদের মজুরী বোর্ড গঠন ও এর বাস্তবায়নে শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা সেল গঠন জরুরি। যে সেল গাড়ি চালক ও শ্রমিকদের বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন, শ্রম ঘন্টা নির্ধারণ, চাকুরির নিশ্চয়তা বিধান, নিয়োগপত্র ও অবসরকালীন সুবিধা বাস্তবায়ন- এসব বিষয় নিশ্চিত করবে। ২. নিরাপদ যোগাযোগ # সকল মহাসড়ক এবং প্রধান সড়কে একমুখী চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘ এবং উচ্চতা সম্পন্ন সড়ক বিভাজনকারী তথা রোড ডিভাইডার-এর ব্যবস্থা করে সোলার সিস্টেমের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করতে হবে। সকল মহাসড়ক এবং প্রধান সড়ককে অবশ্যই ন্যুনতম চারলেনে উন্নীত করতে হব। মহাসড়কের পাশে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের মত দুইপাশে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য সড়ক নির্মাণ করতে হবে। # সড়কের ত্রুটিগুলো অচিরেই দূর করতে হবে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ত্রুটিগুলো দূর করার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে গেছে। উল্লেখ্য এক্সিডেন্ট রিসার্চ সেন্টার (বুয়েট) কর্তৃক বাংলাদেশে মোট ২১৯ টি ব্লাকস্পট চিহ্নিত করা হয়েছিল। ইতিমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চারলেন ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চারলেনে উন্নিত ও আরও ৩৪ টি ব্লাকস্পট ট্রিটমেন্ট করার কারণে ঐ অংশগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে গিয়েছে। বর্তমানে ব্লাকস্পটের সংখ্যা ১৬৫। এই ১৬৫টি ব্লাকস্পটকে দ্রুত ট্রিটমেন্ট এর মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো যায়। ৩. নিরাপদ যানবাহন # যে পদ্ধতিতে গাড়ীর ফিটনেস দেওয়া হয় তা সঠিক নয়। দেশের প্রতিটি বিআরটিএ অফিসে ফিটনেস চেকিং মেশিন স্থাপন এর মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে গাড়ীর ফিটনেস প্রদান করলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। বর্তমান ৩০,০০,০০০ গাড়ীর ফিটনেস এর ব্যবস্থাপনা বিআরটিএর একারপক্ষে সম্ভব না। এক্ষেত্রে পিপিপি (পাবলিক-প্রাইভেট-পার্টনারশীপ) এর মাধ্যমে কার্যকরী ভূমিকা রাখা সম্ভব। # আমাদের দেশের সড়ক উপযোগী যানবাহন ও এর যন্ত্রাংশ আমদানীর সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করতে হবে। ৪. নিরাপদ সড়ক ব্যবহারকারী # ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, যত্র-তত্র গাড়ী পার্কিং করা, নির্দিষ্ট স্থান ব্যতিরেকে যেখানে-সেখানে গাড়ী থামিয়ে যাত্রী উঠানো এবং নামানো, ওভারটেকিং করা, পাল্টাপাল্টি ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল বোঝাই করা, গাড়ীর ছাদে যাত্রী বহন করা, ওভারব্রীজ কিংবা আন্ডারপাস বা জেব্রাক্রসিং থাকা সত্ত্বেও সেগুলো ব্যবহার না করার প্রবণতাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিশেষ করে গাড়ীর গতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ডিজিটাল সিষ্টেমে সি সি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিং জোরদার করতে হবে। # দরিদ্র ও বেকার যুবকদের বিনাবেতনে অথবা ঋণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ চালক হিসাবে গড়ে তোলা এবং সরকারী উদ্যোগে সকল জেলায় একটি করে ড্রাইভিং ও মেকানিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে দেশের শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের এই পেশায় উদ্বুদ্ধ করে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযুক্ত চালক তৈরী করে দেশের চালকের চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। উল্লেখ্য বিআরটিএ’র হিসাব অনুযায়ী আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত ২৯,২১,৪৬২টি গাড়ীর রেজিষ্টেশন দেয়া হয়েছে কিন্তু এ পর্যন্ত ড্রাইভিং লাইন্সেস প্রদান করা হয়েছে মাত্র ১৯,৫১,২৮০। এখন পর্যন্ত গাড়ী চালকের চাহিদা রয়েছে ৯,৭০,১৮২ জনের। লাইন্সেস প্রাপ্ত গাড়ীচালকরা সঠিকভাবে লাইন্সেস পেয়েছে কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ রয়েছে। জরুরী ভিত্তিতে এ সমস্ত লাইন্সেস প্রাপ্ত চালকদের ১৫ দিনের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান এর মাধ্যমে তাদেরকে সচেতন করে তুললে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। আশাকরি শিক্ষিত চালক তৈরীতে সরকার বিশেষ ভুমিকা পালন করবেন। # চালকদের লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি বর্তমানে বিরাজমান তার সঠিক প্রয়োগ এবং প্রতিবন্ধকতা দূরিকরণে বিআরটিএ সঠিক কাজ করছে কিনা তা মনিটরিংয়ের জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। # স্কুলের পাঠ্যক্রমে সড়ক দুর্ঘটনারোধের বিষয়সমূহ অন্তর্ভূক্ত করার যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। ( ১ম শ্রেনী থেকে দ্বাদশ শ্রেনী পর্যন্ত সিলেবাসে অর্ন্তভুক্তকরণ) # রাজনৈতিক ইশতিহারে সড়ক দুর্ঘটনাকে প্রাধান্য দিতে হবে। বিশেষ করে সংসদ সদস্যসহ স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদেরকে স্ব স্ব এলাকার দ্বায়িত্ব প্রদান পূর্বক স্থানীয় গাড়ীর মালিকপক্ষ, শ্রমিক ও চালকপক্ষ, ব্যবসায়ী, এনজিও, প্রশাসনসহ স্থানীয় যুব সংগঠনগুলোকে একত্রিত করে এলাকার সড়ক দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত ও নিরসনে বাস্তবসম্মত ভূমিকা রাখলে এলাকার সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। # বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার ভয়াবয়তা সর্ম্পকিত ও সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান প্রচার বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারি ভাবে সকল পত্রিকা ও মিডিয়াকে বিশেষ নির্দেশ প্রদানসহ তদারকি করতে হবে। # দেশের প্রতিটি জেলার বাস টার্মিনাল গুলোতে টেলিভিশন/ডিজিটাল স্ক্রীণ স্থাপনের মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনার উপর নির্মিত সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ও নির্দেশনাবলী প্রচারের ব্যবস্থা করতে হবে। যাতে করে গাড়ি চালক ও যাত্রীরা এ বিষয়ে অবহিত হবে এবং সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। ৫. দুর্ঘটনা পরবর্তী করণীয় # পৃথিবীর সব দেশে কম বেশী সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও বাংলাদেশের তুলনায় ক্ষতির পরিমাণ অনেক কম। আমাদের দেশে সড়ক দুর্ঘটনা পরবর্তী উদ্ধার কাজ পরিচালনা করার আধুনিক কোন পদ্ধতি নেই। নেই কোন উন্নতমানের চিকিৎসা পদ্ধতি। আধুনিক যন্ত্রপাতি , আ্যাম্বুলেন্স সম্পন্ন সুশিক্ষিত উদ্ধারকারী দল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনা কবলিত যাত্রীদেরকে যতদ্রুত সম্ভব স্থানীয় হাসপাতাল ও ট্রমা সেন্টারে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করলে নিহতের সংখ্যা অনেক কমে যাবে। এক্ষেত্রে প্রতি ৫০ কিঃমিঃ অন্তর ট্রমা সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা করা যেতে পারে, প্রয়োজনে জরুরী ভিত্তিতে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে মুমূর্ষ রোগীদেরকে বড় হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে।
শততম টেস্টে বাংলাদেশের অবিস্মরণীয় বিজয়ে ইলিয়াস কাঞ্চনের অভিনন্দন
২০ মার্চ ২০১৭, নিরাপদনিউজ: বাংলাদেশের শততম টেস্টে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে বিজয়ী হওয়ায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সকল খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি এক বার্তায় বলেন, অবিস্মরণীয় এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে এবার ইতিহাস পাল্টে গেল বাংলাদেশের । স্বাধীনতার মাসে এই ঐতিহাসিক বিজয়ে আমরা গর্বিত। সাবাশ বাংলাদেশ। অভিনন্দন টাইগার বাহিনী। অভিনন্দন বার্তায় ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, যে স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিল এই টেস্টের ৫ম দিনের সকাল। চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে, আশা আর শঙ্কার দোলাচল শেষে বিকেলে ধরা ছিল সেই স্বপ্ন। আমি মনে করি শততম টেস্টের মাহেন্দ্রক্ষণে অসাধারণ এক জয়। সিরিজে পিছিয়ে থাকা, ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের হাজারো বিতর্ক, তুমুল আলোচনা-সমালোচনা, সব পেছনে ফেলে ৪ উইকেটের এই জয় বিদেশের মাটিতে টেস্ট জয়ের বিরল স্বাদ এনে দিল বাঙালী জাতিকে। স্বাধীনতার মাসে আবার জাতি পেল বিজয়ের স্বাদ। আমি বিশ্বাস করি বিজয়ের যে যাত্রা শুরু হয়েছে আগামীদিনে তা অব্যাহত থাকবে। আবারও বাংলার টাইগার বাহিনীকে জানাচ্ছি বিজয়ের শুভেচ্ছা। অভিনন্দনবার্তায় তিনি আরও বলেন, ধীরে ধীরে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল সাফল্যের যে সোপানে উন্নীত হচ্ছে তেমনি করে এই দেশের সকল মানুষ সড়ককে নিরাপদ করার সকল ধাপ অতিক্রম করতে সক্ষম হবে সচেতনতার মাধ্যমে। জাতি পাবে সড়ক দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশ।
নিসচা’র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ কর্মসূচী ইউনিটের যাত্রা শুরু
১৫ মার্চ ২০১‌৭, নিরাপদনিউজ: গত ১৩ মার্চ সোমবার নিসচা’র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ কর্মসূচী ইউনিটের আয়োজনে বিকাল ৪ টায় শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে, ২২/১ তোপখানা রোড, ঢাকা (জাতীয় প্রেসক্লাবের সন্নিকটে) ‘সড়ক নিরাপত্তা: শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকদের করণীয়’ র্শীষক সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বয়ে সড়ক দুর্ঘটনারোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে করণীয় এবং পালনীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা, ট্রেনিং, প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন, নিসচার অন্যতম একটি কর্মসূচি। সড়ক দুর্ঘটনারোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে করণীয় এবং পালনীয় বিষয় নিয়ে আজকের এই আয়োজন। ট্রেনিং সেশনে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেন নিসচা’র ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক আরো আলোচনা করেন নিসচার কার্যনির্বাহী সদস্য কানিজ ফাতেমা মঞ্জুলী কাজী, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয় ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক ফারিহা ফাতেহ। প্রধান অতিথি নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, নিসচার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ কর্মসূচী ইউনিট আয়োজিত আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিরাপদ আগামী গড়তে দক্ষ কর্মী বাহিনি তৈরি হবে। তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকে সচেতনতার ঢেউ আসলে একদিন সড়ক নিরাপদ হবেই হবে। এ বিষয়ে সকলের এগিয়ে আসার উপর গুরুত্বারোপ করেন ইলিয়াস কাঞ্চন। কারণ সড়ক দুর্ঘটনারোধে জনসচেতনতা অপরিহার্য। যা আসতে হবে তৃণমূল পর্যায় থেকে। এই কার্যক্রম ইতিমধ্যে সারাদেশে শাখা সংগঠনের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। মঞ্জুলী কাজী বক্তৃতায় সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিনিয়র সিটিজেনদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের উপর জোর দেন। এ প্রসঙ্গে দিনে বিদেশে সিনিয়ার সিটিজেনরা কিভাবে সড়কের নিরাপত্তায় কাজ করে তা তুলে ধরেন। ফারিহা ফাতেহ সড়ক নিরাপত্তা বিধানে প্রতিটি ঘরে ঘরে শিশু বয়সে আবশ্যিক শিক্ষার পাশাপাশি সড়ক ব্যবহার এবং এর ভয়াবহ দিক পরিহার করার ব্যাপারে অভিভাবকদের সন্তানদের গড়ে তোলার উপর গুরুত্বারোপ করেন। মিরাজুল মইন জয় তারুণ্য এবং যুবশক্তির ভাল-মন্দ দুটি দিক, ওভার কনফিডেন্স এর বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি আগুনের সঙ্গে এর তুলনা করে আগুনের ভাল এবং মন্দ দিক তুলে ধরে যুবশক্তিকে আগামীদিনে আরও সচেতন হওয়ার আহবান জানান। উল্লেখ্য নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দীর্ঘ ২৪ বছর সড়ককে নিরাপদ করার লক্ষ্যে আন্দোলন করে আসছে। বিশ্বময় সড়ক দুর্ঘটনা ৫০% কমিয়ে আনার লক্ষ্যে জাতিসংঘ ২০১১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত যে সড়ক নিরাপত্তা দশক ঘোষণা করেছে সেই কর্মসূচির সাথে একাত্ম হয়ে নিসচা Our Future, Our Road Safety- এই স্লোগান নিয়ে সড়ক নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করাসহ, বিভিন্ন স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পথচলা, গাড়ীতে উঠার নিয়মসহ যাবতীয় বিষয়াদি অবহিত করে আসছে। ‘নিসচার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ কর্মসূচী ইউনিট’ এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন নিসচা’র কার্যনির্বাহী সদস্য আবু বকর সিদ্দিক রাব্বী। এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। সেমিনারে বিগত দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও আহতদের সুস্থ্যতা কামনা করা হয়। শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করেন নিসচা’র সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন নিসচা’র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ কর্মসূচী ইউনিটের অনুষ্ঠান সমন্বয়ক শিক্ষার্থী মোঃ সাকিব হোসেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নিসচা’র মহাসচিব শামীম আলম দীপেন। পুরো অনুষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন নিসচা’র প্রশিক্ষণ সম্পাদক ফারিহা ফাতেহ ও সার্বিক সহযোগিতা করেন নিসচা’র যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদ। অনুষ্ঠানে সেমিনারে আলোচিত বিষয় ও আগামীদিনে করণীয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন মোঃ সাকিব হোসেন (শিক্ষার্থী), মিনহাজ আহমেদ (শিক্ষার্থী), মোঃ আনোয়ার হোসেন শাকিল (শিক্ষার্থী), শাহাদাত হোসেন (তারুণ্য থেকে), আফরোজা হোসেন খান(শিক্ষক – আইডিয়াল কলেজ ), জাকারিয়া মাহফুজ পরাগ (ওয়ান স্মাইল ফাউন্ডেশন থেকে), মুঈদ হাসান তড়িৎ (শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন থেকে), আকাশ বিশ্বাস (সবার জন্য হাসি থেকে), গোলাম কিবরিয়া (আবির্ভাব থেকে) ও বীরমুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর হোসাইন (ঢাবি শিক্ষক)। সেমিনারে অংশগ্রহণকারী স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজসমূহ হচ্ছে ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, রেসিডেন্সিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা কলেজ, সমরিতা মেডিকেল কলেজ, হাজী আশ্রাফ আলী স্কুল এন্ড কলেজ, বি.জি.টি.সি, মনিপুর স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা ক্যান্টঃ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ, রমিজুদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ, বি.ইউ.এফ.টি, ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল এন্ড কলেজও ঢাকা কমার্স কলেজ। ফাউন্ডেশন হচ্ছে শিশুদের জন্য ফাউন্ডেশন, তারুণ্য (The youth), সবার জন্য হাসি, ওয়ান স্মাইল ফাউন্ডেশন ও আবির্ভাব। নিসচা’র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ কর্মসূচী ইউনিটের ‘সড়ক নিরাপত্তা: শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকদের করণীয়’ র্শীষক সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা বাস্তবায়নে যারা মাঠপর্যায়ে কাজ করে অনুষ্ঠানকে সাফল্যমন্ডিত করতে শ্রম দিয়ে গেছেন তারা হলেন মোঃ সাকিব হোসেন, মিনহাজ আহমেদ, মায়িশা রহমান, মাহফুজুর রহমান রাফি, মাহমুদুল হাসান জনি, নুসরাত জাহান মুক্তা, রুবাইয়া সুলতানা রুবা, আল হাসান রাজীব, মোঃ আনোয়ার হোসেন শাকিল, জাহিদুল ইসলাম, শাহরিন রিয়া, আশিকুর রহমান, সাফিন তিজান, সালমান খান ও পারভেজ রহমান। এরা প্রত্যেকেই নিসচা থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং নিসচা’র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রশিক্ষণ কর্মসূচী ইউনিটের সক্রিয় সদস্য। পুরো অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন মায়িশা রহমান ও মাহফুজুর রহমান রাফি। আসুন ‘দোষারোপ নয়, দুর্ঘটনার কারণ জানতে হবে, সবাইকে নিয়ম মানতে হবে’- এই স্লোগানে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই এবং নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়নে সমন্বিত উদ্যোগে সামিল হই। আমরা বিশ্বাস করি সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় নিরাপদ সড়ক বাস্তবায়ন সম্ভব। ভালো থাকুন। নিরাপদে পথ চলুন।
নিয়ম মানছেন না মালিক-চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি: জয় (ভিডিও)
ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৭ নিরাপদনিউজ : মোটরযান আইন অনুযায়ী মহাসড়কে যানবাহনের সর্বোচ্চ গতিসীমা ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করে দিয়েছে জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল। শহর ও লোকালয়ের সড়কগুলোতে এ গতিসীমা সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার। এজন্য যানবাহনগুলোতে গতি নিয়ন্ত্রক যন্ত্র (স্পিড গভর্নর) রাখাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং এ যন্ত্রের ওপর নির্ভর করেই মোটরযানের ফিটনেস সনদ দেওয়া হয়। চালকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে ২৪৩টি ব্ল্যাকস্পটে। চালকদের প্রশিক্ষণ দিতে বলা হয়েছে। এমনকি দুর্ঘটনার জন্য শাস্তিরও বিধান রয়েছে। কিন্তু এসব নিয়মকানুনের কিছুই মানছেন না যান মালিক ও চালকরা। পরিবহন মালিকরাও নির্বিঘ্নে ফিটনেসবিহীন গাড়ি নামাচ্ছেন পথে। অনভিজ্ঞ চালককে নিয়োগ দিচ্ছেন। অন্য বাসের সঙ্গে পাল্লা দিতে গিয়ে এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে ৮০ কিলোমিটার গতির জায়গায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে চলছে গাড়ি। সড়কের বাঁক সোজাকারণ ও সক্ষমতা অনুযায়ী সড়ক সম্প্রসারণেও সরকারের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। এমনকি যাত্রী-পথচারীরাও চলাচলে অসতর্ক। ফলে সড়কপথে দুর্ঘটনা কমানো যাচ্ছে না। থামছে না মৃত্যুর মিছিল। এমনটিই জানালেন, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দিক থেকে এশিয়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সপ্তম। বাংলাদেশের ওপরে আছে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম। কিন্তু এই দেশগুলোর প্রতিটিতে যানবাহনের সংখ্যা বাংলাদেশের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। আর সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩তম। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে ভারী যানবাহনের প্রায় আড়াই লাখ চালক রয়েছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার লাইসেন্স পেয়েছেন পরীক্ষায় অংশ না নিয়ে। একইভাবে বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রায় ২৭ লাখ যানবাহনের মধ্যে অন্তত ৪ লাখের ফিটনেস সনদ নেই। আর সনদভুক্ত যানগুলোও সনদ পেয়েছে পরিদর্শণ বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই। আর পারিপার্শ্বিক অবস্থার মধ্যে রয়েছে অসম গতির যান ও গ্রামীণ সড়ক হঠাৎ করে মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করে দেওয়াও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। https://youtu.be/ZaxLEqTL-xc
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশবাসীকে ইলিয়াস কাঞ্চনের শুভেচ্ছা
১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, নিরাপদনিউজ : ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি…।’ রফিক, সালাম, বরকত, শফিক, জব্বারের রক্তে রঞ্জিত অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আজ। পৃথিবীর ইতিহাসে মাতৃভাষার জন্য রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দেওয়ার নজির নেই। বাঙালির সেই মহাজাগরণের পথ বেয়ে এসেছে মহান স্বাধীনতা। একুশ মানে মাথা নত না করা। একুশ মানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। একুশ মানে অসামপ্রদায়িক-গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। আজ জাতি সশ্রদ্ধচিত্তে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস পালন করবে। সেই সাথে পালিত হবে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এই মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে এক বিবৃতি দিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও শক্তিমান চলচ্চিত্র অভিনেতা চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। অমর একুশে বাঙ্গালী জাতির গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, বাঙালি জাতীয়তাবাদ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক উল্লেখ করে দেশবাসীকে সব ভেদাভেদ ভুলে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরো বলেন, আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে একুশের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হই। পবিত্র সংবিধান ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখি। সন্ত্রাস ও হানাহানির পথ পরিহার করে দেশ ও জনগণের ভাগ্যোন্নয়নে এবং সকলের চলার পথ নিরাপদ করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার শপথ নিই।’ সেই সাথে তিনি অমর একুশে বাঙালি জাতির চিরন্তন প্রেরণার উৎস উল্লেখ করে ভাষা আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী ভাষা শহীদ সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউরসহ নাম না জানা অসংখ্য শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন ও মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলা ভাষাভাষীসহ বিশ্বের সকল ভাষা ও সংস্কৃতির জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।
নিসচা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য চলচ্চিত্র অভিনেতা মিজু আহমেদকে সম্মাননা স্মারক প্রদান
১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৭, নিরাপদনিউজ : ২৮ জানুয়ারি শনিবার নিরাপদ সড়ক চাই সংগঠনের ৭ম জাতীয় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মহাসমাবেশে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর হাত থেকে সন্মাননা গ্রহণ করেন নিরাপদ সড়ক চাই’র প্রতিষ্ঠাতা সদস্যগণ। মহাসমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক। মহাসমাবেশে বিশেষ কারণে অনুপস্থিত থাকার কারণে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য চলচ্চিত্র অভিনেতা মিজু আহমেদ সেদিন সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করতে পারেননি। আজ সন্ধ্যায় নিরাপদ সড়ক চাই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য চলচ্চিত্র অভিনেতা মিজু আহমেদ সম্মাননা স্মারকটি গ্রহণ করেন। মিজু আহমেদ-এর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন নিরাপদ সড়ক চাই’র প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। এসময় উপস্থিত ছিলেন নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব শামীম আলম দীপেন, যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক ফারিহা ফাতেহ। উল্লেখ্য, নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সূচনা লগ্ন থেকে শক্তিমান চলচ্চিত্র অভিনেতা মিজু আহমেদ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশ থেকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সামাজিক এই আন্দোলনে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদে থেকে তিনি কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন এবং সংগঠনকে গতিশীল করার অবদান রেখেছেন যার স্বীকৃতি হিসেবে তাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। বর্তমানে তিনি সংগঠনের উপদেষ্টা পরিষদে রয়েছেন।
মনিটরিং এর অভাবে সড়ক দুর্ঘটনা মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে: ইলিয়াস কাঞ্চন (ভিডিও)
ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০১৭ নিরাপদনিউজ: রবিবার নরসিংদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় ১১জন এর আগের দিন শনিবার ফরিদপুরের নগরকান্দায় যাত্রীবাহী বাস এবং সিলিন্ডারবাহী একটি পিকআপের সংঘর্ষে ১৩জন সহ শনিবার সকাল থেকে রবিবার সারদিনে গাজীপুর, মাগুরা, নাটোর ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অনেকে। নিরাপদ নিউজের প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ ও বিভিন্ন গনমাধ্যমের সুত্রে এটি জানা গেছে। নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের এক জরীপে দেখে গেছে গত কুরবানী ঈদে সড়ক পথে যতজনের প্রাণ গেছে ঠিক সমপরিমান প্রাণহানীর ঘটনা গত ২মাসে ঘটেছে। মনিটরিং এর অভাবে সম্প্রতি ডিসেম্বর মাস থেকে জানুয়ারী মাসে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি জানান, ঈদে যেমন দুর্ঘটনায় মানুষ নিহত হয়েছেন। তেমনি গত ২ মাসে সড়কে মানুষরে প্রাণ ঝরে গেছে। এবিষয়ে তিনি বলেন, ডিসেম্বর ও জানুয়ারী মাসে সাধারনত কুয়াশা থাকে আর এই কুয়াশার কারনে দুর্ঘটনাগুলো বেশী ঘটেছে। তিনি বলেন, ঘণ কুয়াশার সময় প্লেন বন্ধ রাখা হয় ফেরী বন্ধ রাখা হয়। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীকে বলার পরও যথাযথভাবে মনিটরিং করা হয়নি আর এর কারণে সম্প্রতি ডিসেম্বর মাস থেকে জানুয়ারী মাসে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু যে এই একটি কারণ তা নয় পাশাপাশি অদক্ষ চালক, পথচারীদের অসচেতনতা, সরকারি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার গাফিলতি ও দুর্নীতি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ না হওয়া, মালিকদের অতি মুনাফালোভী প্রবণতা, রাস্তার আশপাশে দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি, মহাসড়কে নসিমন-করিমন ও সিএনজিসহ ছোট যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধিসহ নানা কারণও রয়েছে। সেই সাথে তিনি বলেন, সম্প্রতি দেখা গেছে পিকনিকের বাস দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। আর এ বিষয়ে নিসচা চেয়ারম্যান বলেন, আমরা যারা পিকনিকে যাই তারা সাধারনত আনন্দ উল্লাস গান বাজনা কৌতুক এক কথায় বিনোদনের মাধ্যমে গাড়িতে যাত্রা করি এর ফলে চালক যিনি থাকেন তার মনোযোগ কিন্তু নষ্ট হয়ে যায় আর এ কারণে কিন্তু দুর্ঘটনা ঘটে যাচ্ছে অনেক সময়। এবিষয়ে তিনি সকলের সচেতনতা কামনা করেন এবং আনন্দ করতে গিয়ে চালকের গাড়ি চালানোর বিষয়টি যেন বাধাগ্রস্ত না হয় সেদিকে নজর রাখার আহবান জানান। সেই সাথে তিনি সরকার ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষন করেন দ্রুত দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান করে দুর্ঘটনা কমানোর যথাযথ কার্যকর ভুমিকা পালনে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান । সেই সাথে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিরোধী দল, গণপরিবহন নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা, মালিক-শ্রমিক সংগঠনসহ সবার সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ফল পাওয়া যাবে। সমস্যাটি সমাধানে রাজনৈতিক, দৃষ্টিভঙ্গি ভুলে শুধু মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে এই বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে বলেও মনে করেন তিনি। যমুনা টিভিতে নিসচা চেয়ারম্যানের দেয়া এক সাক্ষাৎকারের ভিডিও লিংক দেওয়া হলো।
জানুয়ারী মাসে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে: ইলিয়াস কাঞ্চন
ফেব্রুয়ারি ১২, ২০১৭ নিরাপদ নিউজ : ঘন কুয়াশার সময় সড়কে যানচলাচল বন্ধ রাখার জন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীকে বলার পরও যথাযথভাবে মনিটরিং এর অভাবে সম্প্রতি ডিসেম্বর মাস থেকে জানুয়ারী মাসে সড়ক দুর্ঘটনার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। শনিবার দুপুরে সাভারের বাইপাইলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে শুরু হওয়া বার্ষিক সেন্ট্রাল ক্যাম্পিং-এ অংশগ্রহনকারী ক্যাডেটদের সাথে মত-বিনিময় শেষে এই মন্তব্য করেন তিনি। এসময় তিনি আরও বলেন, ঘণ কুয়াশার সময় প্লেন বন্ধ রাখা হয় ফেরী বন্ধ রাখা হয়। তাই সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীকে বলা হয়েছিল যদি খুব ঘণ কুয়াশা হয় তাহলে সড়কে যেন যানচলাচল বন্ধ রাখা হয়। মন্ত্রী কথা রেখেছিলেন। তবে তিনি সম্প্রতি সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীর পাশাপাশি দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। তাই তিনি বর্তমানে দলীয় কাজের জন্য সড়কে একটু কম নজর দিতে পারছেন। তাই এবার মনিটরিংটা না হওয়ায় সড়ক দূ্র্ঘটানার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি ইলিয়াস কাঞ্চনের। ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের বার্ষিক সেন্ট্রাল ক্যাম্পিং-এ অংশগ্রহনকারী ক্যাডেটদের সাথে মত-বিনিময় সভায় বিএনসিসি’র মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল এসএম ফেরদৌসসহ সামরিক কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বার্ষিক সেন্ট্রাল ক্যাম্পিং-এ অংশগ্রহনকারী ক্যাডেটদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে ট্রেনিং প্রদান করেন নিরাপদ সড়ক চাই এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন।
Previous Page 1 2 3 4 5 ...............17 18 19 20 21 22 Next Page