Content on this page requires a newer version of Adobe Flash Player.

Get Adobe Flash player


NEWS
আগামীকাল নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র ৭ম মহাসমাবেশ
২৭ জানুয়ারি ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র ৭ম মহাসমাবেশ আগামীকাল ২৮ জানুয়ারী ২০১৭ শনিবার । মহানগর নাট্যমঞ্চ (কাজী বশির উদ্দিন মিলনায়তন) গুলিস্তানে সকাল ১০টায় মহাসমাবেশ শুরু হবে। প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের মাননীয় স্পীকার ড,শিরীন শারমিন চৌধুরী, উদ্বোধক ওবায়দুল কাদের মাননীয় মন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়,ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়রদ্বয় যথাক্রমে সাঈদ খোকন, আনিসুল হক ও জনাব এম এ এন ছিদ্দিক, মাননীয় সচিব, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সদয় সম্মতি প্রদান করেছেন। সভাপতিত্ব করবেন আলহাজ্ব রোটা: সৈয়দ এহসান উল হক কামাল,ভাইস চেয়ারম্যান কেন্দ্রীয় কমিটি ও আহবায়ক ৭ম মহাসমাবেশ উদযাপন কমিটি। মহাসমাবেশে প্রধান বক্তা নিরাপদ সড়ক চাই এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। ৭ম মহাসমাবেশে সারা দেশের ১১০টি শাখার কর্মিগণ যোগদান করবেন। এছাড়া নিসচার সম্মানিত উপদেষ্টাবৃন্দ,আজীবন সদস্যবৃন্দ,সাধারণ সদস্যগণ যোগ দেবেন।
স্পীকারের সাথে নিসচা চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎ
০৪ জানুয়ারি ২০১৭, নিরাপদ নিউজ : জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সাথে সংসদ ভবনে স্পীকারের কার্যালয়ে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র চেয়ারম্যন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এর নেতৃত্বে চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দল আজ ৪ জানুয়ারী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। প্রতিনিধি দলে ছিলেন নিসচার যুগ্ম-মহাসচিব লায়ন মোঃ গনি মিয়া বাবুল, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয় ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ফারিহা ফাতেহ। সাক্ষাৎকালে চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন নিসচা’র কার্যক্রম সম্পর্কে স্পীকারকে সংক্ষিপ্তভাবে অবহিত করেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আন্তরিকতার সাথে স্পীকার নিসচার কার্যক্রম শুনেন এবং নিসচা’র কার্যক্রমের তিনি ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দারিদ্রমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়তে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (উত্তর ও দক্ষিণ) মেয়রদ্বয়ের সাথে কথা বলবেন ও প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করবেন বলে নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনকে আশ্বস্ত করেন। সাক্ষাৎকালে নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন আগামী ২৮ জানুয়ারী ঢাকার গুলিস্থানন্থ মহানগর নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিতব্য নিসচার ৭ম মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে স্পীকারকে আমন্ত্রণ জানান। স্পীকার এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং বলেন, নিসচা দেশের একটি পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সংগঠন। সড়ক দুর্ঘটনা নিরসনে জনগণকে সচেতন করতে নিসচা কর্তৃক গৃহীত যে কোন উদ্যোগই কার্যকর হতে পারে।
নিসচা কর্তৃক উত্থাপিত ২০১৬ সালের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান উপস্থাপন
০১ জানুয়ারি ২০১৭:আজ রোববার ১ জানুয়ারি ২০১৭ নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) ২০১৬ সালের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। সকাল ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন এ প্রতিবেদন তুলে ধরেন। সেকেন্ডারি ডাটা বা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রস্তুতকৃত এ প্রতিবদনে দেখা যায় ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারী থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় ২৩১৬। এই তথ্য শুধু মিডিয়ায় প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও আরও অনেক আঞ্চলিক তথ্য অপ্রকাশিত রয়েছে যা কোনো মিডিয়ায় উঠে আসেনি। গত ২০১৫ সালে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল ২৬২৬। এ বছর সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩১০ কম হলেও অন্যান্য দেশের সাথে এই সংখ্যা তুলনা যোগ্য নয়। তিনি বলেন, মাত্র ৬টি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে এবং আঞ্চলিক শাখা সংগঠনের পাঠানো তথ্যের সমন্বয়ে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় বা আঞ্চলিক অনেক দুর্ঘটনার খবর এ প্রতিবেদনে উঠে আসেনি। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে নিহত সংখ্যা ১৭.১৬% কমেছে। ২০১৬ সালের সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে বাস দুর্ঘটনা ৭১০টি, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরীর দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬৬২ টি, প্রাইভেট কার ও মাক্রোবাসের দুর্ঘটনা ১৯২ টি, সিএনজি-অটোরিক্সা, ইজিবাইক, লেগুনা, নসিমন, টেম্পু, ভটভটি, আলমসাধু, মহেন্দ্র ইত্যাদি অবৈধ যানবাহনের দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৮৭ টি এবং মোটরসাইকেলে ২৪৯ টি। এছাড়াও রেললাইন পার হওয়ার সময় রেলক্রসিং এ বিভিন্ন যানবাহনসহ রেল দুর্ঘটনা ও ট্রেনে কাটা পড়ার মত দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৮৪ টি। ২০১৬ সালের সড়ক দূর্ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিসচা চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন আরো বলেন, বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। আর এর তুলনায় সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা যথেষ্ট যথোপযুক্ত নয়। যার জন্য প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা অনাকাংখিত সড়ক দূর্ঘটনা, আর এর শিকার হচ্ছে সর্বস্তরের জনগণ। পাবলিক থেকে প্রাইভেট সব পরিবহনেই ঘটছে এরকম অহরহ দুর্ঘটনা। ঘর থেকে বের হলেই বা খবরের পাতা উল্টালেই চমকে উঠতে হয় সড়ক দুর্ঘটনার খবর পড়ে। অশিক্ষিত চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দূর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জনগণের অসচেতনতা, অনিয়ন্ত্রিত গতি, রাস্তার অপর্যাপ্ততা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, আইন ও তার যথারীতি প্রয়োগ ইত্যাদিই মূল কারণ বলে চিহ্নিত করা যায়। এসব মূল কারণকে চিহ্নিত করে ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর আমার সহধর্মিনী জাহানারা কাঞ্চনের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর শোককে শক্তিতে পরিণত করে সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে আমার নেতৃত্বে গড়ে উঠে একটি সামাজিক আন্দোলন- যার নাম নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)। এই সংগঠনের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে জনগণ সচেতন হয়ে উঠেছে। এই সংগঠনের সামাজিক আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বাংলাদেশের প্রায় সবগুলো জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এর অঙ্গ সংগঠন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে জনসচেতনতাসহ সড়ক দুর্ঘটনারোধে বিভিন্ন কার্যক্রমে। নিসচা কর্তৃক উত্থাপিত প্রতিবেদনে ২০১৬ সালের সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা নির্ণয়, আহত ও নিহতের সংখ্যা নির্ণয়, দায়ী যানবাহন চিহ্নিত করা, ফলাফল বিশেষণ ও আমাদের করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। এই পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদনের কাজটি সম্পাদন করা হয়েছে পুরোপুরি সেকেন্ডারী ডাটা বা তথ্যের উপর ভিত্তি করে। যা হলঃ ৬টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা, স্থানীয় অঙ্গ সংগঠনগুলোর রিপোর্ট ও টিভি চ্যানেলের রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে। সংবাদ সম্মেলনের শুাংতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন নিসচার আন্তর্জাতিক সম্পাদক মিরাজুল মইন জয়, শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন যুগ্ম মহাসচিব সাদেক হোসেন বাবুল, অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন। এ ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিসচা কেন্দ্রীয় কমিটির মহাসচিব শামীম আলম দীপেন, ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল, যুগ্ম মহাসচিব লিটন এরশাদ ও লায়ন গনি মিয়া বাবুল, অর্থ সম্পাদক নাসিম রুমি, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে আজাদ ও শেখ আবদুর রহমান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক ফারিহা ফাতেহ, দপ্তর সম্পাদক মিজানুর রহমান, সহ দপ্তর সম্পাদক সাবিনা ইয়াসমিন, দুর্ঘটনা অনুসন্ধান বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, সহ দুর্ঘটনা অনুসন্ধান বিষয়ক সম্পাদক আলাল উদ্দিন, আজীবন সদস্য হুমায়ূন কবির, রাজিয়া সুলতানা, কার্যনির্বাহী সদস্য এম জামাল হোসেন মন্ডল, সৈয়দ খায়রুল আলম, সাধারণ সদস্য মোস্তফা কবির, আমিরুল ইসলাম, মাকফুর হোসেন খান প্রমুখ। ডাটাভিত্তিক এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেন সৈয়দ এহসান- উল হক কামাল। তথ্য সংরক্ষণ করেন দুর্ঘটনা অনুসন্ধান বিষয়ক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান, সহ দুর্ঘটনা অনুসন্ধান বিষয়ক সম্পাদক আলাল উদ্দিন। সহযোগিতায় ছিলেন সাইফুল ইসলাম ও জামাল হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চনের বক্তব্য ও তথ্য সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই নিসচা পরিবারের পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সকলের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ও তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা। প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও অর্থাৎ ২০১৬ সালের সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবেদন আমরা তৈরী করেছি। যা প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সকল দৈনিক পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল, ইলকেট্রনকি মিডিয়া ও সংবাদ সংস্থাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ সবাইকে জানাই ২০১৭ ইংরেজী নববর্ষের শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন। বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। আর এর তুলনায় সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা যথেষ্ট যথোপযুক্ত নয়। যার জন্য প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা অনাকাংখিত সড়ক দুর্ঘটনা, আর এর শিকার হচ্ছে সর্বস্তরের জনগণ। পাবলিক থেকে প্রাইভেট সব পরিবহনেই ঘটছে এরকম অহরহ দুর্ঘটনা। ঘর থেকে বের হলেই বা খবরের পাতা উল্টালেই চমকে উঠতে হয় সড়ক দুর্ঘটনার খবর পড়ে। অশিক্ষিত চালক, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, দূর্বল ট্রাফিক ব্যাবস্থাপনা, জনগণের অসচেতনতা, অনিয়ন্ত্রিত গতি, রাস্তার অপর্যাপ্ততা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, আইন ও তার যথারীতি প্রয়োগ ইত্যাদিই মূল কারণ বলে চিহ্নিত করা যায়। এসব মূল কারণকে চিহ্নিত করে ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর আমার সহধর্মিনী জাহানারা কাঞ্চনের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর শোককে শক্তিতে পরিণত করে সড়ক দূর্ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন আমার নেতৃত্বে গড়ে উঠে যার নাম ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)। এই সংগঠনের কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে দেশ ও বিদেশের ১১০ টি শাখা সংগঠন সক্রিয়ভাবে জনসচেতনতাসহ সড়ক দুর্ঘটনারোধে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে প্রতি বছর আমরা সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকি। আশা করি, আপনাদের মাধ্যমে ২০১৬ সালের সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন দেশের জনগণ জানতে পারবেন এবং এর ভয়াবহতা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবেন ও নিজেরা সচেতন হবেন। লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ এক পলকে ২০১৬ সাল এর সড়ক দুর্ঘটনা – সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা নির্ণয় করা। – আহত ও নিহতের সংখ্যা নির্ণয় করা। – দায়ী যানবাহন চিহ্নিত করা। – ফলাফল ও বিশ্লেষণ। – আমাদের করণীয়। পদ্ধতিঃ এই পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদনের কাজটি সম্পাদন করা হয়েছে পুরোপুরি সেকেন্ডারী ডাটা বা তথ্যের উপর ভিত্তি করে। যা হলঃ – ৬টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকা। – শাখা সংগঠনগুলোর রিপোর্ট। – টিভি চ্যানেল। – অনলাইন পত্রিকার তথ্য। – অনুমেয় অনুজ্জ বা অপ্রকাশিত ঘটনা। ২০১৪, ২০১৫ ও ২০১৬ সালের দুর্ঘটনা, আহত ও নিহতের সংখ্যা এক নজরে গত ৩ বছরের সড়ক দুর্ঘটনার চিত্র ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে দুর্ঘটনা ১৪.৬৩% কমেছে। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে নিহত সংখ্যা ১৭.১৬% কমেছে। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে আহতের সংখ্যা ১৫.৬৮% কমেছে। দূর্ঘটনার সংখ্যা: উপরোক্ত সারণি থেকে দেখা যায় যে, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারী থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট দুর্ঘটনার সংখ্যা প্রায় ২৩১৬ টি। ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালের সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ৩১০ টি কম। এই তথ্য শুধু মিড়িয়ায় প্রকাশিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এছাড়াও আরও অনেক আঞ্চলিক তথ্য অপ্রকাশিত রয়েছে যা কোনো মিডিয়ায় উঠে আসেনি। ২০১৬ সালের সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে বাস দুঘটনা ৭১০টি, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরীর দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬৬২ টি, প্রাইভেট কার ও মাক্রোবাসের দুর্ঘটনা ১৯২ টি, সিএনজি-অটোরিক্সা, ইজিবাইক, লেগুনা, নসিমন, টেম্পু, ভটভটি, আলমসাধু, মহেন্দ্র ইত্যাদি অবৈধ যানবাহনের দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩৮৭ টি এবং মোটরসাইকেলে ২৪৯ টি। এছাড়াও রেললাইন পার হওয়ার সময় রেলক্রসিং এ বিভিন্ন যানবাহনসহ রেল দুর্ঘটনা ও ট্রেনে কাটা পড়ার মত দুর্ঘটনা ঘটেছে ১৮৪ টি। উল্লেখযোগ্য সড়ক দুর্ঘটনা সমূহঃ -২৪ মার্চ শেরপুরে যাত্রীবাহী বাস-সিএনজি সংঘর্ষে ৫ জন নিহত। – ১৯ এপ্রিল রংপুরের তারাগঞ্জে দু’টি বাসে মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত ও ৫০ জন আহত, চালক ঘুমে টলছিলেন বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন। এছাড়া ১০ জুলাই বাস-অটোরিক্সা সংঘর্ষে একই পরিবারের ৫ জন নিহত হন। – ৪ মে কক্সবাজারের চকরিয়ায় দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা-মেয়েসহ ৫ জন নিহত। বাস চালানো অবস্থায় মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন চালক। – ৬ মে ময়মহনসিংহের শম্ভুগঞ্জে ট্রাক চাপায় সিএনজি চালিত অটোরিক্সার ৮ যাত্রী নিহত, যাদের মধ্যে ৫ জন একই পরিবারের। – ২৮ মে মাদারীপুরে সেতুর রেলিং ভেঙ্গে বাস খালে পড়ে ৯ জন নিহত ও ৪৫ জন আহত। – ৩০ মে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ট্রাক-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে একই পরিবারের ৫ জন নিহত। – ৪ জুন বগুড়ার শেরপুরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১০ জন নিহত ও ২৫ জন আহত। – ১৬ আগষ্ট পাবনায় ট্রাক-অটোরিক্সার সংঘর্ষে স্বামী-স্ত্রীসহ ৬ জন নিহত। – ১৭ সেপ্টেম্বর বাহ্মণবাড়িয়ার বিজয় নগরে বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে একই পরিবারের ৮ জন নিহত। – ১৪ নভেম্বর বগুড়ার শেরপুরে দুইটি ট্রাকের সংঘর্ষে পুলিশসহ ৭ জন নিহত। উল্লেখ্য ঈদুল ফিতরের সরকারী ব্যবস্থাপনা ভালো থাকার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা কম হলেও ঈদুল আযহায় ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং দুর্বল থাকায় সর্বাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। শুধু সেপ্টেম্বর ২০১৬-তে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা ২১৩, নিহত ৩৪১ ও আহতের ৯২৫ টি। ২০১৬ সালের দুর্ঘটনার সংখ্যা মাস অনুযায়ী ডায়গ্রাম-এ দেখানো হল: নিহতের সংখ্যাঃ ২০১৬ সালে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা ৪১৪৪। ২০১৫ সালে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫০০৩। গত বছরের তুলনায় এ বছর আহতের সংখ্যা সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার প্রায় ১৭.১৬ শতাংশ কম। নিম্নে নিহতের একটি ডায়াগ্রামে দেখানো হলঃ আহতদের সংখ্যাঃ ২০১৬ সালে মোট ২৩১৬ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫২২৫ জন লোক আহত হয়েছে। যাদের মধ্যে প্রায় ১০% হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেছে। ২০১৫ সালে ২৬২৬ টি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিল ৬১৯৭ জন, এ বছর আহতের সংখ্যা ৯৭২ জন কম (৩১ ডিসেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত)। গত বছরের তুলনায় আহতের সংখ্যা এবার ১৫.৬৮% কম বলে রিপোর্টে পাওয়া যায়। অনেক ছোট ছোট দুর্ঘটনায় আহতদেরকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করা হয় যা পত্রিকায়ও প্রকাশ হয় না। এদের মধ্যে অনেকেই আজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করে। যা এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। নিম্নে আহতের সংখ্যা একটি ডায়াগ্রামে দেখানো হলঃ সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরাঃ ২০১৬ সালে বেশির ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে হাইওয়েতে। ছোট ছোট অবৈধ যানবাহন যেমন- ভ্যান, রিকসা, নসিমন, অটো রিক্সা ইত্যাদিকে এজন্য বেশী দায়ী বলে প্রতিয়মান হয়। আইনকে অমান্য করে ধীর গতির বাহন মহাসড়কে এখনো চলাচল করে যা দূরপাল্লার বড় গাড়ীগুলোর চলাচলা বিঘ্নতার সৃষ্টি করে। স্থানীয় প্রশাসন ও হাইওয়ে পুলিশকে এ ব্যাপারে তেমন কোন ভুমিকা পালন করতে দেখা যায় না। তাছাড়াও এ সমস্ত ধীর গতির গাড়ীর হেডলাইট না থাকার কারণে ঘন কুয়াশা ও বৃষ্টিতে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে থাকে। যেখানে ঘন কুয়াশায় লঞ্চ, স্টীমার, নৌকা এমনকি উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয় সেখানে কুয়াশায় গাড়ী চালনোর জন্য নির্দিষ্ট গতি নির্ধারণ করা সত্বেও তা মানা হয় না। এক সময় ট্রাকের বেপরোয়া গতিকে বা চালনাকে দুর্ঘটনার জন্য বেশি দায়ী করা হলেও এখন তা অনেক কমেছে কিন্তু বাসের বেপরোয়া গতিকে এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। সরকার ও নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)-এর উদ্যোগে গাড়ী চালকদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ প্রদান করার কারণে ট্রাক, মাইক্রোবাস ইত্যাদির অতিরিক্ত গতিতে চালানোর প্রবণতাও অনেকাংশে হৃাস পেয়েছে, যার ফলে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলেও কমগতিতে গাড়ী চালনার কারণে নিহত ও আহতের সংখ্যা কম বলে প্রতিয়মান হয়। ২০১৬ সালের সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের কারণঃ ক) সরকারী কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা), বিআরটিএ ও এলজিইডি নিয়মিত গাড়ী চালকদের সচেতনতাবৃদ্ধি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। খ) নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) দেশব্যাপি গাড়ী চালকদের সচেতনতাবৃদ্ধিমূলক ও জনসচেতনতামূলক যে কার্যক্রম করেছে তা দেশের ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া ব্যাপকভাবে প্রচার করার কারণেও এ বছর সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কিছুটা কম হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের জন্য দেশের ইলেক্ট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। এছাড়াও এ বছর বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় টক-শো, রির্পোট ও সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় এ সংক্রান্ত বিষয়ে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে জনগণকে যথেষ্ট সচেতন করেছে। গ) জনসচেতনতা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে শহরাঞ্চলে হেলমেটের ব্যবহারের প্রচলন হয়েছে, যার ফলে মটর সাইকেলের দুর্ঘটনা এ বছর শহরাঞ্চলে অনেক হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ফুটপাতের উপর দিয়ে মটর সাইকেল আরোহীদের চলাচল কঠোরতার সাথে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। তাছাড়াও সিট বেল্ট বাঁধা, ফুটওভার ও আন্ডারপাস ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে পথচারীরা অনেকাংশেই সড়ক দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে। জাতিসংঘের নির্দেশনা: জাতিসংঘ ২০১১ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনা ৫০% কমিয়ে আনার জন্য দশক ঘোষণা করেছে। জাতিসংঘের এ ঘোষণার সাথে একাত্ম হয়ে ৭ম পাঁচশালা পরিকল্পনায় (২০১৬-২০২০) বর্তমান সরকার এসডিজিএস (SDGs)- এ ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ৫০% সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য বহুমূখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যদিও এটি আমাদের দেশের জন্য কষ্টসাধ্য ও চ্যালেঞ্জের ব্যাপার, তবুও আমরা বিশ্বাস করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও যোগাযোগ মন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় এবং আমাদের সকলের সহযোগিতায় এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। করণীয় বিষয় সমুহঃ *বিভিন্ন মিডিয়ায় মাধ্যমে সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান প্রচারের যে ধারাহিকতা শুরু হয়েছেতা বজায় রাখতে হবে। *স্কুলের পাঠ্যক্রমে সড়ক দুর্ঘটনারোধের বিষয়সমূহ অন্তর্ভূক্ত করার যে ঘোষণা দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করা, যত্র-তত্র গাড়ী পার্কিং করা, নির্দিষ্ট স্থান ব্যাতিরেকে যেখানে-সেখানে গাড়ী থামিয়ে যাত্রী উঠানো এবং নামানো, ওভারটেকিং করা, পাল্টাপাল্টি ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো, অতিরিক্ত যাত্রী ও মাল বোঝাই করা, গাড়ীর ছাদে যাত্রী বহন করা, ওভারব্রীজ কিম্বা আন্ডারপাস বা জেব্রাক্রসিং থাকা সত্বেও সেগুলো ব্যবহার না করার প্রবনতাকে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাধ্যমে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বিশেষ করে গাড়ীর গতিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে সক্রিয় হতে হবে। দরিদ্র ও বেকার যুবকদের বিনা বেতনে অথবা ঋণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ চালক হিসাবে গড়ে তোলা এবং সরকারী উদ্যোগে সকল জেলায় একটি করে ড্রাইভিং ও মেকানিক্যাল ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে দেশের শিক্ষিত ও বেকার যুবকদের এই পেশায় উদ্বুদ্ধ করে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উপযুক্ত চালক তৈরী করে দেশের চালকের চাহিদা মেটানোর ব্যবস্থা করতে হবে। উল্লেখ্য আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত আরো ৬ লক্ষ চালকের চাহিদা রয়েছে। আশা করি শিক্ষিত চালক তৈরীতে সরকার বিশেষ ভুমিকা পালন করবেন। * সকল মহাসড়ক এবং প্রধান সড়কে একমুখী চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘ এবং উচ্চতা সম্পন্ন সড়ক বিভাজনকারী তথা রোড ডিভাইডার-এর ব্যবস্থা করতে হবে। সকল মহাসড়ক এবং প্রধান সড়ককে অবশ্যই ন্যূনতম চারলেনে উন্নীত করতে হবে। মহাসড়কের পাশে হাটিকুমরুল-বনপাড়া মহাসড়কের মত দুপাশে ধীরগতির যানবাহনে চলাচলের জন্য সড়ক নির্মাণ করতে হবে। * পথচারীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য ফুটপথগুলো দখলমুক্ত করে যেখানে ফুটপাত নেই সেখানে ফুটপাত তৈরীর ব্যবস্থা করতে হবে এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে পুনরায় যেনো ফুটপাত দখল না হয় এ বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। এ ব্যাপারে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন মেয়র মহোদয়দের নিকট বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। * সড়কের ত্রুটিগুলো অচিরেই দূর করতে হবে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ত্রুটিগুলো দূর করার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে গেছে। একইভাবে অন্যন্য মহসড়কের ত্রুটিগুলো দূর করলে সড়ক দুর্ঘটনা কমবে বলেও আশা করা যায়। * বিভিন্ন সিটি কর্রোপোরেশনের আওতাভূক্ত রাস্তা পারাপারের জন্য বেশী বেশী আন্ডারপাস তৈরী করতে হবে। বিশেষ করে ঢাকার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর, ফার্মগেইট, নিউমার্কেটসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আন্ডারপাস তৈরী করে নিবিঘ্নে জনগণের রাস্তা পারাপার নিশ্চিত করতে হবে। * নতুন আইন প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে। * রাজনৈতিক ইশতিহারে সড়ক দুর্ঘটনাকে প্রাধান্য দিতে হবে। * পরিবহন ব্যবসাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা আইনঃ ইতিমধ্যে সরকার সড়ক নিরাপত্তা আইন এর খসড়া প্রণয়ন করেছেন। সে খসড়া পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বাস্তবসম্মত আইন প্রণয়নের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রস্তাবনা পেশ করা হয়েছে। সাথে সাথে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য দায়ী পক্ষকে কঠোর শাস্তির আওতায় আনারও সুপারিশ করা হয়েছে। আমাদের প্রস্তাবনা অনুযায়ী আইন প্রনীত ও তা বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে যাবে। আগামী পাঁচশালা পরিকল্পনায় বর্তমান সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য এসডিজিএস (SDGs)- এ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এসডিজিএস (SDGs) মোতাবেক কার্যক্রম গ্রহণ করলে আগামী ২০২০ সালের মধ্যে আমরা সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছাতে পারবো বলে আশা রাখি। সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা আপনাদের অনুরোধে অত্যন্ত সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও আন্তরিকতার সাথে আমরা প্রতি বছরই সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান প্রতিবেদন উপস্থাপন করে থাকি। এই কাজটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল। ইতিপূর্বেও সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান ছিল সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন তৈরীতে মন্ত্রণালয়ে আলাদা একটি সেল গঠন করা অথবা আমাদের উপর দায়িত্ব ন্যাস্ত করে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা যাতে করে সড়ক দুর্ঘটনার গবেষণা ও পরিসংখ্যান নিখুঁতভাবে তৈরী করা সম্ভব হয়। আমাদের এই বক্তব্যগুলো আপনারা মিডিয়ার মাধ্যমে সকলকে জানাবেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে আপনাদের এই সাহায্য ও সহযোগিতার জন্য আবারও ধন্যবাদ জানাচ্ছি পাশাপাশি বিগত ২৪ বছর ধরে আর্থিক সাহায্য ও সহযোগিতা প্রদান করে যারা আমাদের সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তাদেরকেও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। সড়ক দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান প্রতিবেদনটি তৈরী করেছেন দুর্ঘটনা অনুসন্ধান ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এ কে এম ওবায়দুর রহমান ও দুর্ঘটনা অনুসন্ধান ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক মোঃ আলাল উদ্দিন এবং গবেষণা ও পূর্ণাঙ্গ রুপদান করেছেন কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল।তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ করেছে জামাল হোসেন। নিরাপদে পথ চলুন, পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়। ‘দোষারোপ নয়, দুর্ঘটনার কারণ জানতে হবে, সবাইকে নিয়ম মানতে হবে’
জন্মদিনে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত ইলিয়াস কাঞ্চন
২৫ ডিসেম্বর ২০১৬:ডেটলাইন ২৪ ডিসেম্বর- নিরাপদ সড়ক চাই- আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা, সারাবিশ্বের রোল মডেল, জনবান্ধব সমাজ উন্নয়ণ তারকা, শিক্ষাবান্ধব ব্যক্তিত্ব, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চনের ৬০তম জন্মদিন। যিনি মনে করেন এদেশের জনগণের অকৃত্রিম ভালবাসাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। আর তাই নিজের জীবনের বিয়োগান্তক ঘটনার শোককে শক্তিকে পরিণত করে আজ থেকে ২৩ বছর আগে গড়ে তোলেন ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ শিরোনামে সামাজিক আন্দোলন। সড়কের অপঘাতে মৃত্যু কারোই কাম্য হতে পারে না। পথ যেন হয় শান্তির, মৃত্যুর নয়- এই স্লোগানে নিরবচ্ছিন্ন ছুটে বেড়াচ্ছেন পথে ঘাটে প্রান্তরে। জনসচেতনতা তৈরিতে ইলিয়াস কাঞ্চনের এই প্রয়াস এখন সারাবিশ্বের কাছে এখন রোল মডেল। ইলিয়াস কাঞ্চনের ৬০ তম জন্মদিনে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা দেশে-বিদেশে ব্যাপক আয়োজনে নানা কর্মসূচি পালন করে। কেন্দ্রীয়ভাবেও অনাড়ম্বর এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
দেশবাসীকে মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন ইলিয়াস কাঞ্চন
১৬ ডিসেম্বর ২০১৬: আজ ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস। মহান বিজয় দিবসে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের চেয়ারম্যান জননন্দীত তারকা চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিজয় দিবস জাতীয় জীবনে এক অনন্য গৌরবময় দিন। দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র সংগ্রাম এবং লাখ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের কাঙিক্ষত স্বাধীনতা। ইলিয়াস কাঞ্চন বিজয়ের এই মহান দিনে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে জীবন উৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন, তিনি আরো শ্রদ্ধা জানান, সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সর্বস্তরের জনগণকে, যাঁরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে আমাদের এই বিজয় অর্জনে অবদান রেখেছেন। বিজয় দিবসের শুভেচ্ছায় তিনি দল-মত-শ্রেণী-পেশা ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সুখী, সুন্দর ও নিরাপদ সড়ক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেশ বিদেশে তার অগনীত ভক্ত সুভাকাংখি ও দেশ এবং দেশের বাইরে নিরাপদ সড়ক চাই এর সকল শাখা কমিটির সদস্যবৃন্দসহ দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন মহান মুক্তিযুদ্ধের ৩০ লাখ শহীদ ও দুই লাখ মা-বোনকে, যাদের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। পরিশেষে তিনি সকলের নিরাপদ জীবন ও সু-স্বাস্থ কামনা করে সড়ক পথে সাবধানে চলার আহবান জানান।
অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না
১০ ডিসেম্বর ২০১৬: ইলিয়াস কাঞ্চনের ভক্ত ও সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি ‘ইলিয়াস কাঞ্চনের’ ছবি দিয়ে যে কেউ কিছু পোস্ট করলে সেটা ইলিয়াস কাঞ্চনের বক্তব্য হতে পারে না। যার দায়দায়িত্ব তিনি নন, যিনি পোস্ট করেছেন তাকেই বহন করতে হবে। এসব বিভ্রান্তিকর অপপ্রচারে কেউ বিভ্রান্ত হবেন না। না জেনে ইলিয়াস কাঞ্চন সম্পর্কেও মন্তব্য করবেন না। তিনি সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ধর্মপরায়ণ বলে অন্য ধর্মের প্রতি তাঁর কোন বিদ্বেষ নেই। অতএব না জেনে কেউ কোন মন্তব্য করবেন্ না। সমাজের একজন দায়িত্বশীল মানুষ হয়ে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বালখিল্য মন্তব্য করার মত ব্যক্তিত্ব বহন করেন না। তিনি এদেশের আপামর মানুষের আশা আকাংখার প্রতীক। যার জীবনে মর্মান্তিক এক শোকের অধ্যায় থেকে মানুষের জনকল্যাণে নিবেদিত থাকার ঐতিহাসিক এক প্রেক্ষাপট রচিত হয়েছে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের মাধ্যমে। অতএব ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবি দেখেই কোন মন্তব্য এলে সেটা যে তাঁরই বক্তব্য বা মতামত হতে পারে ধরে নিবেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর নিজস্ব একাউন্ট, ilias kanchan, kanchan ilias, nirapad sarak chai পেইজ, we demand safe road গ্রুপ, ইলিয়াস কাঞ্চনের ভক্ত আমরা, page: http://www.facebook.com/NirapodSarakChai?ref=hl, Group: http://www.facebook.com/groups/175731639138843/, https://twitter.com/#!/NirapadNews, নিরাপদনিউজ.কম অনলাইন সংবাদ মাধ্যম রয়েছে। ভক্তরা আপনারা এগুলোই ফলো করবেন। গত August 22 এ·Report24bd added a new photo. দিয়ে যে স্ট্যাটাস দিয়েছে ইলিয়াস কাঞ্চনের ছবি দিয়ে তাতে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তাদের উদ্দেশ্যে বলছি এই পোস্টের সঙ্গে ইলিয়াস কাঞ্চনের কোনরূপ সংশ্লিষ্ঠতা নেই। অতএব মন্তব্য করার ক্ষেত্রে আপনারা নিজের বিবেককে জাগ্রত করুন। ধন্যবাদ সকলকে।
নিসচা’র ২৪ বছরে পদার্পণ অনুষ্ঠানে ইলিয়াস কাঞ্চনের বক্তব্যের ভিডিও
১ ডিসেম্বর ২০১৬ সামাজিক আন্দোলন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) সাফল্য ও গৌরবের ২৪ বছরে পদার্পণ করেছে। ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর চট্টগ্রামে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনের প্রিয়তমা স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। স্ত্রী বিয়োগের এই শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করে ১৯৯৩ সালের ১ ডিসেম্বর ইলিয়াস কাঞ্চন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) শীর্ষক একটি সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। ১ ডিসেম্বর নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এর ২৪ বছরে পদার্পণ উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সংগঠনসহ সারা দেশের ১১০টি শাখায় একযোগে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যদিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়।
উম্মে আরা মিতার শয্যাপাশে ইলিয়াস কাঞ্চন
৫ ডিসেম্বর ২০১৬, নিরাপদ নিউজ: নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র কেন্দ্রীয় কমিটির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক উম্মে আরা মিতা হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত ১ ডিসেম্বর তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাকে দেখতে রোববার সন্ধ্যায় নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজনসহ হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যান তার শয্যা পাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন। কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসান-উল হক কামাল, মহাসচিব শামীম আলম দীপেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেন ও কেন্দ্রীয় সংগঠনের সদস্য.....................
নিজেরা সতর্ক হলে দুর্ঘটনা অনেকটা কমবে: ইলিয়াস কাঞ্চন
০২ ডিসেম্বর ২০১৬, নিরাপদ নিউজ : নিরাপদ সড়ক চাই’র (নিসচা) চেয়ারম্যান চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেছেন, চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিজের স্ত্রীকে হারিয়ে গত ২৪ বছর আগে শুরু করেছিলাম এ আন্দোলন। নিজের প্রিয়জনকে হারালেও এ আন্দোলনের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের সে সব মানুষকে নিরাপদ রাখা, যারা নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে ভালবাসে। শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রামের ডিসি হিলে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র দুই যুগপূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, শুরুতে এ আন্দোলনে কিছুটা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হলেও গত ২৪ বছরে আন্দোলনের ফলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকাংসে হ্রাস পেয়েছে। সড়কে চলাচলের সময় নিজেরা সতর্ক হলে দুর্ঘটনা অনেকটা কমে যাবে। ইলিয়াস কাঞ্চন আরো বলেন, এক সময় জাতিসংঘের রিপোর্টে বাংলাদেশকে এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে....................
নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন নিয়ে আমি আশাবাদি: ইলিয়াস কাঞ্চন
০১ ডিসেম্বর ২০১৬, নিরাপদ নিউজ : আমি নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন নিয়ে আশাবাদি এইজন্য যে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই আন্দোলনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। ২৩ বছরের পথচলায় যে সাফল্য এবং জনসচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে তার জন্য অর্জনও কম নয়। দেশের মানুষ আজ সচেতন হচ্ছে। মানুষ আজ নিরাপদে পথ চলার চেষ্টা করছে। সড়ক দুর্ঘটনারোধে যে আমাদেরও অনেক কিছু করার আছে তা আজ মানুষ বুঝতে শিখেছে এবং দুর্ঘটনারোধ করতে তারা আজ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। পুর্বের তুলনায় দেখতে গেলে মানুষ অনেকটা সচেতন হয়েছে সামনের..........
Previous Page 2 3 4 5 6 ...............17 18 19 20 21 22 Next Page